২০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম:
আমলাতন্ত্রের ফাঁদে সাংবাদিকতা: আত্মঘাতী কোন্দল ও পেশাগত মর্যাদার সংকট ! পটিয়া দুগ্ধ খামারিদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ অনুষ্টানে এমপি এনাম। পীরগঞ্জে বিভিন্ন জলাশয় থেকে চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ। পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ-এ মাস্টার্স প্রোগ্রাম উদ্বোধন চট্টগ্রাম বন্দরে জলাবদ্ধতায় কোটি টাকার পণ্য নষ্টের অভিযোগে ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দাবি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দিলেন চসিক মেয়র উখিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড আমানত ফেরতের দাবিতে চট্টগ্রামে গ্রাহকদের বিক্ষোভ উন্নত যোগাযোগই উন্নয়নের চাবিকাঠি: এমপি শাহজাহান চৌধুরী পটুয়াখালীতে ইয়াবাসহ মাদক কারবারী ও সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার।
আন্তর্জাতিক:
শাম্মী তুলতুল—বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন মেসি কুরাসাওকে হারিয়ে ৭-১ গোলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল জার্মানি মিলান বাংলা প্রেসক্লাব ইতালির আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত। মার্কিন বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের লেবাননে ইসরাইলি হামলা ৩ স্বাস্থ্যকর্মীসহ নিহত ৫ জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব কে লড়াইয়ে ৪ শীর্ষ প্রার্থী মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিপাকে ভারতের বিমান খাত: জ্বালানির আকাশচুম্বী দামে বন্ধ হওয়ার শঙ্কা দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা, জোরদার করা হয়েছে নজরদারি লাহোর থেকে যাতি উমরা স্মৃতির অলিন্দে পাঞ্জাবের আতিথ্য
     
             

আমলাতন্ত্রের ফাঁদে সাংবাদিকতা: আত্মঘাতী কোন্দল ও পেশাগত মর্যাদার সংকট !

  বাংলাদেশ সংবাদ প্রতিদিন

নিউজ ডেক্স >>> হিমু : সাংবাদিকদের পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল আজ সামগ্রিক সাংবাদিক সমাজকে কলঙ্কিত করেছে। রাজধানী ঢাকায় কতজন সাংবাদিক কর্মরত আছেন, সেই হিসাব যেমন জটিল, তেমনি কোন আমলার দুর্নীতি নেই—সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়াও দুষ্কর। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, একজন সাংবাদিক যখন কোনো দুর্নীতিবাজের মুখোশ উন্মোচন করতে যান, তখন অন্য একজন সাংবাদিকই সেই আমলার পক্ষে তদবিরে লিপ্ত হন। আত্মীয়তা বা দলীয় পরিচয়ের দোহাই দিয়ে বলা হয়—”তিনি ভালো লোক।” অথচ স্বার্থের সমীকরণ মেলা বন্ধ হলেই সেই ‘ভালো মানুষের’ আসল রূপ চেনা যায়। সামান্য ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নিজের পেশাগত পরিবারের মধ্যে এমন আত্মঘাতী দ্বন্দ্ব সত্যিই অনভিপ্রেত।

আমরা বড় পদের কর্মকর্তাদের কথা বাদ দেই ছোট পদের একজন সার্ভেয়ার, হিসাব সহকারী, ফরেস্টার, কাস্টমস পিয়ন কিংবা সরকারি গাড়ি চালকের যে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ রয়েছে, তা আজ ওপেন সিক্রেট। তারা কোটি কোটি টাকার মালিক। বিশাল অংকের দুর্নীতির বিপরীতে সামান্য কিছু অর্থ ছুড়ে দিয়ে তারা সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ রাখার অপচেষ্টা করে। দশ কোটি টাকার দুর্নীতির ভিড়ে মাত্র দশ হাজার টাকায় নীরবতা কিনে নেওয়ার এই সংস্কৃতি দেশে দুর্নীতিবাজদের অপক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে।
কোনো সাংবাদিক সততার সাথে রিপোর্ট করতে গেলে আমলারা প্রভাবশালীদের রেফারেন্স ব্যবহার করে। এতে কাজ না হলে প্রভাবশালী সাংবাদিকদের দিয়ে সুপারিশ করানো হয়। অনেক সময় সৎ সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ‘চাঁদাবাজি’-র অপবাদ দেওয়া হয়। ফলস্বরূপ, কখনো সামাজিক মর্যাদার ভয়ে, আবার কখনো পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। এভাবে পার পেয়ে আমলারা পুনরায় দুর্নীতিতে মেতে ওঠে।
পরবর্তীতে যখন অন্য কোনো আপসহীন সাংবাদিক সেই দুর্নীতির তথ্য বড় হেডলাইনে প্রকাশ করে দেন, তখন পূর্বের তদবিরকারী সাংবাদিকের সাথে আমলার সখ্যতা হয়তো শেষ হয়, কিন্তু দুর্নীতি কি বন্ধ হয়? বিন্দুমাত্র না। অথচ অহেতুক সহকর্মীকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে সাংবাদিকরা নিজেদের পেশাকেই কলুষিত করছেন। আমলাতন্ত্রের কাছে নিজেদের সস্তা করে তোলার এই আত্মঘাতী প্রবণতার কারণেই আজ সাংবাদিক সমাজ চরম অবমূল্যায়ন ও এক বিভীষিকাময় সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।
সাংবাদিকদের মনে রাখা উচিত—কোনো আমলা, মন্ত্রী কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তি কখনোই সাংবাদিকদের আপন হন না। তারা কেবল নিজেদের স্বার্থে সাংবাদিকদের ব্যবহার করেন এবং কাজ শেষ হওয়া মাত্র ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলে দেন। কারণ তারা দীর্ঘদিন একই চেয়ারে বা একই প্রশাসনিক বলয়ে থাকেন এবং নিজেদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে তাদের গভীর লেনদেন থাকে। তাদের দপ্তরে আমাদের মতো অনেক সাংবাদিকই নিয়মিত যাতায়াত করেন এবং তারা সবাইকে খুব নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেন। একজন সাংবাদিকের কথা অন্যজনকে জিজ্ঞেস করে তারা যাচাই করেন, “অমুক সাংবাদিক কেমন?” তখন অন্যজন হয়তো ব্যক্তিগত বা পেশাগত হিংসা থেকে বলে বসেন, “উনি তো সাংবাদিকের মধ্যেই পড়েন না।” আমলারা তখন সুযোগ বুঝে বলেন, “উনি কি আপনার বিরুদ্ধে কিছু বলছেন? বললে আমাকে জানাতে পারেন। অথবা উনি আবার আসলে আমার নাম নেবেন, দেখবেন আপনার টেবিলে আর আসবেন না।”
আমলারা এভাবেই সাংবাদিকদের পারস্পরিক বিভেদকে নিজেদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন এবং সবাইকে মাপেন। অথচ একদিন যখন আপনি নিজেই সেই আমলার দপ্তরে গিয়ে পিয়নের মাধ্যমে খবর পাঠান, তখন তিনি ভেতরে বসে থাকলেও পিয়নকে দিয়ে বলান, “স্যার মিটিংয়ে আছেন, পরে আসতে বলেছেন।” অর্থাৎ, কাজ ফুরিয়ে গেলে ওই আমলা আপনার সাথে দেখাটুকু করতেও ইচ্ছুক হন না। আজ আমলারা সাংবাদিকদের সাথে এই ধরনের চরম অবমাননাকর আচরণ করার সাহস পাচ্ছেন, কারণ সাংবাদিকদের একাংশ আজ চোগলখোর ও দালালে পরিণত হয়েছেন।
যদি আমরা ১৯৮৭-৮৮ সালের দিকে তাকাই, তখন যত বড় সচিব বা মন্ত্রীই হোন না কেন, যেকোনো পত্রিকার সাংবাদিক ফোন করলে বা দেখা করতে গেলে তারা সময় দিতেন, মনোযোগ দিয়ে কথা শুনতেন। এমনকি সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য আজকের মতো অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের কড়াকড়ি লাগত না; সাংবাদিক পরিচয় দিলেই প্রবেশ করতে দেওয়া হতো। তখন কি রাষ্ট্র চলেনি? তখন কি প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল না? নিশ্চয়ই ছিল। বরং তখনকার চেয়ে এখন দুর্নীতি বহুগুণ বেড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। অথচ এর বিপরীতে সাংবাদিকদের সম্মান আজ ধুলোয় মিশে গেছে। বর্তমানে অনেক টেলিভিশন চ্যানেল বা পত্রিকার সাংবাদিকদের আমলাদের দপ্তর থেকে ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও দেখতে পাওয়া যায়। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো সাংবাদিকদের মধ্যকার তীব্র দলাদলি, একে অন্যকে ছোট করে দেখার মানসিকতা এবং আমলাদের অন্ধভাবে ‘ভাই’ বা ‘বন্ধু’ ভাবার আত্মঘাতী ভুল।

মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন

You cannot copy content of this page